গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কেন খেজুর খাবেন?

আমাদের মধ্যে ছোটো বড়ো অনেকেই প্রায়শ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগেন। এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা যে কত যন্ত্রণাদায়ক, তা শুধুমাত্র যারা ভোগেন তারা-ই ভালো করে বলতে পারবেন। তো, অনেকেই আবার এই সমস্যা থেকে মুক্তির পেতে নানা ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন, ডাক্তার দেখাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সমাধান হচ্ছে না! একটুখানি ভাজাপোড়া খাবার কিংবা দাওয়াত-পার্টিতে তেল-মসলাযুক্ত কোনো খাবার খেলেই সমস্যা শুরু হয়ে যায়। এই ফাস্টফুড / জাঙ্কফুড এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার যুগে গ্যাস্ট্রিক কিংবা যেকোনো পেটের অসুখ অনেকটা ঘরোয়া রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তো, আজকের পোস্টে আমরা- ওষুধ না খেয়েই গ্যাস্ট্রিক থেকে সহজে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানব! গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি মিলতে পারে, আমাদের সবার খুবই পরিচিত ফল ‘খেজুর’ খাওয়ার মাধ্যমে! চলুন তাহলে জানা যাক- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কেন খেজুর খাবেন?

আরও পড়ুন: টমেটো কি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে?

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কেন খেজুর খাবেন?

খেজুর (ইংরেজি নাম: Date Palm) হলো এক ধরনের তালজাতীয় শাখাবিহীন বৃক্ষ। খেজুরের বৈজ্ঞানিক নাম হলো ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা (Phoenix dactylifera)। সভ্যতার ইতিহাসে সুমিষ্ট ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে খেজুর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়াতে, হাজার হাজার বছর ধরেই এটার চাষাবাদ হয়ে আসছে। খেজুর গাছ প্রধানত মরু অঞ্চলে ভালো জন্মায়। তবে যেকোনো বেলে মাটির স্থানে খেজুর গাছ লাগানো যায়! তো, খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ধরা ছোট্ট ছোট্ট ফলকে খেজুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আমরা সবাই জানি যে খেজুর বেশ সুস্বাদু আর মোটামুটি পরিচিত একটা ফল। এই ফলটি ফ্রুকটোজ এবং গ্লাইসেমিক এ ভরপুর। এটা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবেও ধরা হয়ে থাকে। খেজুরের মধ্যে থাকা পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে হিসেব করলে জানা যায়- ৪টি অথবা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরের মধ্যে রয়েছে: ৯০ ক্যালোরি, ১ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম রাফেজ বা ফাইবার, সাথে আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। এ কারণে খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎসও বটে। তাই খেজুর খেলে, আমাদের শরীরের ক্লান্তিভাব অনেকটা দূর হয়। এ ছাড়া খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি থাকে। এর মধ্যে ভিটামিন বি-সিক্স [B 6] আমাদের মস্তিষ্কের কর্ম দক্ষতা বাড়াতে অনেক সহায়তা করে।

আরও পড়ুন: ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচানোর উপায়!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার- আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, দিনে মাত্র তিনটি খেজুর খাওয়া আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই দূর করতে পারে।

প্রতিদিন তিনটি করে খেজুর খান টানা এক সপ্তাহ। এক সপ্তাহ খেলে মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত হবে। অবশ্য এক সপ্তাহ খাওয়ার পর, খেজুর খাওয়া বন্ধ করা যাবে না, চালিয়ে যেতে হবে। এটাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করুন। আর যখন এটাকে আপনি প্রাত্যাহিক অভ্যাসে পরিণত করে ফেলতে পারবেন, তখন ভালো ফলাফল পাবেন। অর্থাৎ আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।

তাই যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন, তারা আজকে থেকে প্রতিদিন তিনটি করে খেজুর টানা সাতদিন খান। এই সাত দিনের মধ্যে একদিনও কিন্তু খেজুর খাওয়া বন্ধ করবেন না। টানা সাতদিন খেজুর খেলে, এরপর দেখবেন আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই বিদায় নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫টি ইন্টেরেস্টিং এনড্রয়েড এপ ২০২২!

আর খেজুর যে শুধু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে তা কিন্তু নয়। খেজুরের এটা ছাড়াও আরও বহু গুণ রয়েছে। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, খাবারের রুচি ও হজম ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। এ ছাড়াও অনেক ধরনের রোগ দূর করতে খেজুর হলো মোক্ষম ঔষধি।

আমাদের অন্ত্রের ভেতর যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করে এই খেজুর। তা ছাড়া কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমাতেও ভূমিকা রাখে এটি।

খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের একটি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে কোলন স্বাস্থ্য ভালো হয়। খেজুর উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আর ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো কোলন ক্যান্সারের জন্য দায়ী কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত খেজুর খাওয়া।

সূত্র:

আরও পড়ুন: পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কী?

One thought on “গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কেন খেজুর খাবেন?”
  1. আমি প্রতিদিনই ২-৩ টা করে খেজুর খাই দাদা! 😀

মন্তব্য করুন:

%d bloggers like this: