পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কী?

আর পাঁচটা স্বাভাবিক বিষয়ের মতো ঘুমও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ! বেঁচে থাকার তাগিদে আমরা যেমন খাবার ও পানীয় গ্রহণ করি; তেমনি সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপনের জন্য ঘুমেরও কোনো বিকল্প নেই। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অনিদ্রা রোগে ভুগেন কিংবা অন্য কাজের ব্যস্ততা বা ইচ্ছে করেই ঠিকমতো ঘুমোন না! অথচ প্রয়োজনীয় ঘুমের অভাব আমাদের দেহের ও মনের ওপর নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে রাতে ভালো ঘুম খুবই দরকারি। সুস্থ-সবল দেহের অধিকারী হতে চাইলে, দৈনিক অন্তত টানা আট ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। আপনি যদি শিশুদের মতো টেনশন ফ্রি ভাবে আরামসে ঘুমোতে পারেন, তাহলে আপনার জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো আশীর্বাদ থাকতে পারে না। তো, আজকের পোস্টে আমরা জানার চেষ্টা করব, পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কী! চলুন দেখে নেওয়া যাক, পর্যাপ্ত ঘুম কেন জরুরি-

আরও পড়ুন: নিজের একটা ওয়েবসাইট থাকা কেন জরুরি?

পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা :

  • রাতে ভালোমতো ঘুম হলে অ্যালজেইমার, ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্থূলতা, ডায়বেটিস, ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা বা এমনকি আত্মহত্যা প্রবণতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।
  • ঘুমের সময় আমাদের শরীরের তন্ত্র, মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। তাই, যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমোলে এগুলো পরে পুনরায় সতেজ হয়ে কাজ শুরু করতে পারে।
  • ঘুম কম হলে  কিংবা ঘুমের কোনো ব্যাঘাত ঘটলে মানুষের মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আর খিটমিটে মেজাজ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ফুরফুরে মেজাজে থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই!

আরও পড়ুন: টমেটো কি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে?

  • এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঘুমোলে মানুষের মস্তিষ্ক স্থির ও ঠান্ডা থাকে, ফলে সবকিছু খুব সহজেই মনে থাকে। মূলত মস্তিষ্কের কোষগুলো ঘুমের সময় স্মৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়। এতে করে ঘুম থেকে ওঠার পর স্মৃতিগুলো ব্যবহারের জন্য উপযোগী হয়।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হলে, রাস্তায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকা ঠিকমতো সম্ভব হয় না। এতে করে রাস্তায় দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুমোলে, দুর্ঘটনার এই আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়।
  • সৃজনশীল কোনো কাজে সাফল্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর নিয়মিত ঘুম সৃজনশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটায়। অন্যদিকে, ঘুম না হওয়া থেকে সৃষ্ট ক্লান্তি মস্তিষ্কের গতি কমিয়ে দেয় এবং নতুন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

আরও পড়ুন: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কেন খেজুর খাবেন?

অতিরিক্ত কোনোকিছুই আবার ভালো না! পর্যাপ্ত না ঘুমানো যেমন আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর, আবার একই ভাবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমও শরীরের উপকার করে না, উল্টো অপকারটাই করে। তাই আমাদের নিয়ম মাফিক ঘুমোনোর অভ্যাস গড়তে হবে! রাতে না ঘুমিয়ে, দিনে ঘুমানো কোনোভাবেই চলবে না! আমাদের অবশ্যই অবশ্যই রাতে ঘুমোনো উচিত; রাত ১১টা – ১২টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে, ভোর ৬টা – ৭টার মধ্যে উঠতে হবে! তাহলেই এই ঘুম আমাদের দেহের উপকারে আসবে! কারণ, এটাই হলো ঘুমের আদর্শ ও বিজ্ঞানসম্মত রুটিন।

আশা করি, সবাই পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেছেন! সুতরাং, পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা জানারার পর; জীবনকে অতিরিক্ত কাজের ব্যস্ততায় জড়িয়ে না ফেলে, নিজের পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঘুমান। যাপন করুন- সুস্থ, নীরোগ, দীর্ঘ জীবন।

এই ধরনের পোস্ট আরও পড়তে চাইলে উইকিহাউ৩৬০তে চোখ রাখুন!

আরও পড়ুন: ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচার উপায়!

One thought on “পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কী?”

মন্তব্য করুন:

%d bloggers like this: