ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কী?

আমরা মধ্যে অনেকের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে! আমরা অধিকাংশ বাংলাদেশিরাই ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংকে একই জিনিস মনে করি। অথচ এই দুটো একটা আরেকটার সাথে সম্পৃত্ত বিষয় হলেও, দুটো কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস! তো আজকের পোস্টে আমরা সবার সেই ভুল ধারণা ভাঙার চেষ্টা করব! জানার চেষ্টা করব- ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং আদতে কী? চলুন তাহলে শুরু করা যাক!

আরও পড়ুন: উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ | আবুল হাসনাত বাঁধন

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কী?

ফ্রিল্যান্সিং [Freelancing]:

আমরা অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংকে কাজ মনে করলেও, ফ্রিল্যান্সিং আসলে কোনো কাজ না! এটা শুধুমাত্র একটা টার্ম যা স্বাধীন কিংবা মুক্ত পেশাকে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে! যে ব্যক্তি অন্যের কাছে দায়বন্ধ না থেকে, নিজের কাজ নিজে করে, সে একজন ফ্রিল্যান্সার ও তার কাজটাই হলো ফ্রিল্যান্সিং [Freelancing]! তবে ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার ও অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং পেশার জনপ্রিয়তার ফলে, ফ্রিল্যান্সিংয়ের সংজ্ঞা ও ধরন অনেকটা পাল্টেছে! বর্তমানে,  যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মাসিক বেতনে চাকরি না করে চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাজ করে থাকেন, সেটাকে ফ্রিল্যান্সিং [Freelancing] বলা হচ্ছে। আর বর্তমানে অফলাইনের কাজ বাদ দিয়ে, অনলাইনে পাওয়া যায় ও ঘরে বসে করা যায় এমন কাজকেই ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে! একজন ফ্রিল্যান্সার স্বাধীনভাবে যেকোনো কাজ চুজ করতে পারে, নির্দিষ্ট টাইমে অফিসে কাজ করার চেয়ে, ঘরে বসে নিজের পছন্দমতো টাইমে কাজ করতে পারে! তো, বর্তমানে এই ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে নবীন-তরুণ অনেকেই ঝুঁকছে এই ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে!

আরও পড়ুন: ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচানোর উপায়!

আউটসোর্সিং [Outsourcing]:

যখন কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজ নিজেরা না করে, মাসিক বেতনে কর্মচারী না রেখে, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের বা ব্যক্তির সাহায্যে করিয়ে নেওয়া হয়, তখন সেটাকে আউটসোর্সিং [Outsourcing] বলে! এই কাজ কোনো প্রজেক্টের একটা অংশ বিশেষ কিংবা পুরো প্রজেক্টটাই হতে পারে। যেমন ধরুন- আপনার একটা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আছে। এখন আপনি চাচ্ছেন, সেই রেস্টুরেন্টের অনলাইন প্রেজেন্স তৈরি করে, অনলাইন থেকেও কাস্টমার টানতে। এর জন্য শুরুতে আপনার রেস্টুরেন্টের জন্য একটা ওয়েবসাইট বানাতে হবে, কিন্তু আপনি ওয়েবসাইট বানাতে জানেন না! তো, ওয়েবসাইট বানানোর জন্য আপনি নিশ্চয় কোনো ওয়েব ডেভেলপারকে হায়ার করবেন। এখন, আপনি রেস্টুরেন্টে যেরকম মাসিক বেতন দিয়ে বাবুর্চি ও ওয়েটারদের চাকরিতে রাখেন, ওয়েব ডেভেলপারকে নিশ্চয় ওভাবে রাখবেন না; সাইট বানিয়ে দেওয়ার পর তার কাজ শেষ, সে বিদায়ও নেবে! এটাই হলো আউটসোর্সিং!

আরও পড়ুন: সাইটের জন্য বেস্ট থিম ও প্লাগিন খুঁজে নিন!

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে সম্পর্ক:

ওপরের সংজ্ঞা দেখে নিশ্চয় অনেকটা বুঝে গেছেন এই দুটোর মধ্যে সম্পর্ক কী! কেউ না বুঝলে, আমি আবার বুঝিয়ে লিখছি, কোম্পানিগুলো আউটসোর্স করে মূলত কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করে! ওপরে রেস্টুরেন্টের যে উদাহরণ দিলাম, সেখানে আপনি ওয়েবসাইট বানানো জন্য কোম্পানি হিসেবে আউটসোর্সিং করেছেন; অন্যদিকে ওয়েব ডেভেলপার ফ্রিল্যান্সিং করেছে অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার ওয়েবসাইট বানিয়ে দিয়েছে! আশা করি, এখন আর কোনো কনফিউশন নেই!

তো, কোম্পানিগুলো মেইনলি আউটসোর্সিং করে তাদের খরচ কমানোর জন্য। অনেক সময় দেখা যায়- পর্যাপ্ত সময়, শ্রম অথবা প্রযুক্তির অভাবেও আউটসোর্সিং করা হয়। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কাজগুলো;  যেমন: Web Design & Development, Software & App Development, Writing & Translation, Graphics Design, Multimedia & Architecture, SEO/SEM/SMM, Sales & Marketing, Data Entry ইত্যাদি অনেক বেশি আউটসোর্সিং করা হয়। আর ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে এই কাজগুলো নিয়ে করে দেয়!

আরও পড়ুন: টমেটো কি লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে?

আউটসোর্সিং করা উল্লেখযোগ্য দেশ হলো- আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি!

অন্যদিকে যেসকল দেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস প্রদান করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভারত, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চীন, পাকিস্তান, পানামা, নেপাল, বাংলাদেশ, রোমানিয়া, মিশরসহ আরও অনেক দেশ।

তো, আজকের পোস্ট এতটুকু। এই ধরনের আরও পোস্ট পড়তে উইকিহাউ৩৬০তে চোখ রাখুন!

মন্তব্য করুন: